শিশুটির চিকিৎসার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড কাজ শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় আনার পর শুক্রবার রাত থেকে শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে শিশুটির কাছে থাকা তার একজন মামা বেলা এগারটা নাগাদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, শিশুটি এখনো আগের মতোই অচেতন অবস্থাতেই রয়েছে।
শিশুটিকে নিপীড়নের প্রতিবাদে ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শুক্রবারই সড়ক অবরোধ ও থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। আগামীকাল রোববার আবার বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নারী ও শিশুদের নিয়ে হেনস্থা ও নিপীড়নের বেশ কয়েকটি ঘটনার মধ্যেই মাগুরার এই শিশুটির নিপীড়নের ঘটনা ঘটলো।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আসাদুজ্জামান বেলা বারটার দিকে শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, "অবস্থা ভেরি ক্রিটিক্যাল। তার গলার আঘাত খুবই মারাত্মক। তার যৌনাঙ্গেও আঘাত রয়েছে। গত রাত ৯টার দিকে মেয়েটিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে। বাকিটা আল্লাহ ভরসা"।
তিনি জানান, শিশুটির চিকিৎসার জন্য পেডিয়াট্রিক, পেডিয়াট্রিক সার্জারি, এ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি ডিপার্টমেন্ট মিলে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং এই বোর্ড ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ভেন্টিলেটর যন্ত্রের সাহায্যে তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলছে।
ঘটনা সম্পর্কে কী জানা গেছে
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর শিশুটির পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে যে চারজনকে আটক করা হয়েছে তার মধ্যে শিশুটির বোনের স্বামী ও শ্বশুরও রয়েছে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে শিশুটি মাগুরা শহরে তার বোনের শ্বশুর বাড়িতে বোনের কাছে এসেছিলো বেড়ানোর জন্য।
বৃহস্পতিবার বেলা এগারটার কিছুক্ষণ পর শিশুকে অচেতন অবস্থায় মাগুরা আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসেন এক নারী। পরে জানা যায় ওই নারী তার বোনের শাশুড়ি। এরপর খবর পেয়ে শিশুটির মাও হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে শিশুটির গলায় দাগ ও শরীরে বেশ কিছু জায়গায় আঁচড় দেখতে পান। চিকিৎসকের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে শিশুটির যৌনাঙ্গে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
অবস্থা ভালো নয় দেখে তখনি মাগুরা হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে শিশুটিকে নেয়া হয় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
এর মধ্যেই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং শিশুটির নিপীড়নের অভিযোগ করে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন বহু মানুষ।






0 comments:
Post a Comment